অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

খুলনায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি খুলনা জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এমডি আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করার পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলনা সদর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কেসিসি মার্কেটের সামনে খুলনা জেলা পরিষদের সামনে মোটরসাইকেল যোগে আসে ওয়ান্টেভুক্ত আসামী এমডি আসলাম। সেখান থেকে এমডি আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। তিনি খুলনা সদর থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলা নং–৩৫৬/২৫ (তারিখ ৮/১২/২৫), দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় জারি হওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসলাম হোসেনকে থানায় নিয়ে কিছু সময় পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে, ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এমডি আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের পর তিনি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাকে খুলনা জেলা পরিষদের একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিশের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন আইনজ্ঞ ও সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি অসুস্থ হলে তাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। কোনো ব্যক্তির জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার আইনগত ভিত্তি কী?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক। অসুস্থতার অজুহাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি যদি সত্যি হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছেন সচেতনমহল। তাদের দাবি, খুলনা জেলা পরিষদে সংঘটিত নানা দুর্নীতির সঙ্গে এমডি আসলাম হোসেনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমন একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা দুর্নীতিবাজদের আরও উৎসাহিত করবে।
ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, যদি সত্যিই অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।
এ বিষয়ে কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।